
আরবী ভাষার প্রকারভেদ
আরবী ভাষা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ ভাষা। এটি বিভিন্ন প্রকারে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ক্লাসিক্যাল আরবী, আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবী, মিডিয়া আরবী, বিজনেস আরবী এবং কুরআনিক আরবী অন্যতম। প্রতিটি প্রকারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহারিক ক্ষেত্র রয়েছে। এখানে আমরা আরবী ভাষার বিভিন্ন প্রকারভেদ এবং তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করবো।
ক্লাসিক্যাল আরবী (Classical Arabic)
ক্লাসিক্যাল আরবী হলো সেই ভাষা যা প্রায় ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শতাব্দী পর্যন্ত ব্যবহার করা হতো। এই ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটি ইসলামী সাহিত্য এবং কাব্যের মূল ভাষা। ক্লাসিক্যাল আরবীর শব্দভাণ্ডার এবং ব্যাকরণ অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং জটিল। কুরআন এবং হাদিস এই ভাষায় লেখা হয়েছে। ক্লাসিক্যাল আরবী ভাষার জ্ঞান ইসলামী শিক্ষা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন এবং হাদিস ক্লাসিক্যাল আরবী ভাষায় লিখিত হওয়ায় ক্লাসিক্যাল আরবী ভাষার জ্ঞান ছাড়া কেউ ইসলামিক পণ্ডিত বলে দাবি করতে পারেনা।
আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবী (Modern Standard Arabic)
اللغة العربية الفصحى
আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবী (MSA) হলো ক্লাসিক্যাল আরবীর আধুনিক রূপ। এটি বর্তমানে আরব বিশ্বের সরকারি ভাষা এবং শিক্ষা, গণমাধ্যম, এবং আনুষ্ঠানিক কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবীর ব্যাকরণ এবং শব্দভাণ্ডার ক্লাসিক্যাল আরবীর সঙ্গে প্রায় মিলে যায়। তবে এতে কিছু আধুনিক শব্দ এবং ধারণা যোগ করা হয়েছে। এটি আরবী ভাষার শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সারা পৃথিবীতে যারাই নিজ দেশে ‘স্পোকেন এরাবিক’ শেখেন, তাদের অধিকাংশই আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবীই শেখেন। এর বাইরে কেউ কেউ বিশেষ প্রয়োজনে স্থানীয় উপভাষা বা লোকাল ডায়ালেক্ট ও শিখে থাকেন।
মিডিয়া আরবী (Media Arabic)
মিডিয়া আরবী হলো আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবীর একটি শাখা, যা বিশেষভাবে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, এবং অনলাইন মিডিয়ায় ব্যবহৃত হয়। মিডিয়া আরবীতে সাধারণত সহজ এবং পরিষ্কার ভাষায় খবর এবং তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এটি আরবী ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে তথ্য প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মিডিয়া আরবী ভাষার জ্ঞান সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে অত্যন্ত মূল্যবান। মিডিয়া আরবী যেহেতু পুরোপুরি টারমিনোলোজি বা পরিভাষা নির্ভর, তাই সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষ ছাড়া পৃথিবীতে মিডিয়া আরবী জানা মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম।
বিজনেস আরবী (Business Arabic)
বিজনেস আরবী হলো আরবী ভাষার একটি বিশেষায়িত রূপ, যা ব্যবসা, বাণিজ্য, এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এতে সাধারণত ব্যবসায়িক শব্দ এবং পদবীসমূহের ব্যবহার বেশি হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিজনেস আরবী ভাষার জ্ঞান বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। এটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে কিছু বাইং হাউজ আছে, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির সাথে ব্যবসা করে থাকে, তাদের বিজনেস আরবীর বিশেষ প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক কোম্পানীগুলো ইংরেজী ভাষা শিখতে অনাগ্রহী, তাই যারা মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির সাথে ব্যবসা করে থাকেন, তাদের ব্যবসা, বাণিজ্য, এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ব্যবসায়িক শব্দ এবং পদবীসমূহ জানতে হয়।
কুরআনিক আরবী (Quranic Arabic)
কুরআনিক আরবী হলো সেই ভাষা যা কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি ক্লাসিক্যাল আরবীর একটি শুদ্ধতম রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়। কুরআনিক আরবীর ব্যাকরণ এবং শব্দভাণ্ডার অত্যন্ত জটিল এবং গভীর। কুরআনের মর্মার্থ এবং তাৎপর্য বোঝার জন্য কুরআনিক আরবী ভাষার জ্ঞান অপরিহার্য। ইসলামী শিক্ষায় এই ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। কুরআনিক আরবী ভাষার গভীর জ্ঞান ছাড়া কেউ ইসলামিক স্কলার কিংবা কুরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী বলে দাবি করতে পারে না।
স্থানীয় উপভাষা (Local Dialects)
আরবী ভাষার বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন উপভাষা বা ডায়ালেক্ট প্রচলিত রয়েছে। মিসরীয় আরবী, ল্যাভেন্টাইন আরবী, মাগরেবী আরবী, এবং খলিজী আরবী অন্যতম। প্রতিটি উপভাষার নিজস্ব উচ্চারণ, শব্দভাণ্ডার, এবং ব্যাকরণ রয়েছে। স্থানীয় উপভাষা সাধারণত দৈনন্দিন জীবনে এবং অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় উপভাষার জ্ঞান স্থানীয় সংস্কৃতি এবং সমাজের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন উপভাষা বা ডায়ালেক্টে কিছু কিছু হরফ ও পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন, মিসরীয় আরবী ডায়ালেক্টে তাঁরা জ্বীম কে গাঈন এ রুপান্তর করে কথা বলে। তাঁরা নাজিব মাহফুজকে বলে নাগিব মাহফুজ যার মূল আরবী নাম জ্বীম দিয়ে- نَجِيْب مَحْفُوْظ। তেমনি মূল আরবী শব্দ জামীল (جَمِيل- সুন্দর) মিসরীয় ডায়ালেক্টে গামীল হয়ে যায়। আবার মূল আরবী শব্দ জামাল (جَمَل - উট) মিসরীয় ডায়ালেক্টে ‘গামাল’ হয়ে যায়। কোন কোন ডায়ালেক্টে আবার হরকত পরিবর্তন হয়, যেমন- গালফ ডায়ালেক্টে মূল আরবী শব্দ সায়্যারাহ (سَيَّارَة – গাড়ি- সীনের ওপর যবর দিয়ে) কে তাঁরা সিয়্যারাহ (সীনের ওপর যের দিয়ে) বলে থাকে।
আরবী ভাষার প্রকারভেদ এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলি খুবই বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময়। প্রতিটি প্রকারের নিজস্ব ব্যবহারিক ক্ষেত্র এবং গুরুত্ব রয়েছে। ক্লাসিক্যাল আরবী এবং কুরআনিক আরবী ধর্মীয় এবং ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে অপরিহার্য, যেখানে আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবী এবং মিডিয়া আরবী আনুষ্ঠানিক এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বিজনেস আরবী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় উপভাষা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এবং অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়। শিক্ষাগত এবং প্রযুক্তিগত আরবী ভাষার জ্ঞান একাডেমিক এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সফল হতে সহায়ক। আরবী ভাষার বিভিন্ন প্রকারভেদ বিষয়ে জানা থাকলে তা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়, যা মানুষের জীবনে নতুন নতুন সম্ভাবনা দ্বার উন্মোচন করে।
(রেফারেন্স : {প্রকাশিতব্য} কুরআন বুঝার হাতেখড়ি, মুহাম্মাদ মুহসিন মাশকুর, ইলহাম পাবলিকেশন্স, ঢাকা)।
lesson-01
আরবিতে নিজের পরিচয় ও নিজের ভালো লাগা মন্দ লাগার বিষয় শেয়ার করা।
সংশ্লিষ্ট ৩০ টি জরুরী শব্দ, নিজের সম্পর্কে ১২ রকমের আরবী অভিব্যক্তি ও বিভিন্ন আঙ্গিকে একই কথা বলার চর্চা।
আরবী ভাষার প্রকারভেদ
আরবী ভাষা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ ভাষা। এটি বিভিন্ন প্রকারে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ক্লাসিক্যাল আরবী, আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবী, মিডিয়া আরবী, বিজনেস আরবী এবং কুরআনিক আরবী অন্যতম। প্রতিটি প্রকারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহারিক ক্ষেত্র রয়েছে। এখানে আমরা আরবী ভাষার বিভিন্ন প্রকারভেদ এবং তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করবো।
ক্লাসিক্যাল আরবী (Classical Arabic)
ক্লাসিক্যাল আরবী হলো সেই ভাষা যা প্রায় ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শতাব্দী পর্যন্ত ব্যবহার করা হতো। এই ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটি ইসলামী সাহিত্য এবং কাব্যের মূল ভাষা। ক্লাসিক্যাল আরবীর শব্দভাণ্ডার এবং ব্যাকরণ অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং জটিল। কুরআন এবং হাদিস এই ভাষায় লেখা হয়েছে। ক্লাসিক্যাল আরবী ভাষার জ্ঞান ইসলামী শিক্ষা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন এবং হাদিস ক্লাসিক্যাল আরবী ভাষায় লিখিত হওয়ায় ক্লাসিক্যাল আরবী ভাষার জ্ঞান ছাড়া কেউ ইসলামিক পণ্ডিত বলে দাবি করতে পারেনা।
আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবী (Modern Standard Arabic)
اللغة العربية الفصحى
আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবী (MSA) হলো ক্লাসিক্যাল আরবীর আধুনিক রূপ। এটি বর্তমানে আরব বিশ্বের সরকারি ভাষা এবং শিক্ষা, গণমাধ্যম, এবং আনুষ্ঠানিক কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবীর ব্যাকরণ এবং শব্দভাণ্ডার ক্লাসিক্যাল আরবীর সঙ্গে প্রায় মিলে যায়। তবে এতে কিছু আধুনিক শব্দ এবং ধারণা যোগ করা হয়েছে। এটি আরবী ভাষার শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সারা পৃথিবীতে যারাই নিজ দেশে ‘স্পোকেন এরাবিক’ শেখেন, তাদের অধিকাংশই আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবীই শেখেন। এর বাইরে কেউ কেউ বিশেষ প্রয়োজনে স্থানীয় উপভাষা বা লোকাল ডায়ালেক্ট ও শিখে থাকেন।
মিডিয়া আরবী (Media Arabic)
মিডিয়া আরবী হলো আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবীর একটি শাখা, যা বিশেষভাবে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, এবং অনলাইন মিডিয়ায় ব্যবহৃত হয়। মিডিয়া আরবীতে সাধারণত সহজ এবং পরিষ্কার ভাষায় খবর এবং তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এটি আরবী ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে তথ্য প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মিডিয়া আরবী ভাষার জ্ঞান সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে অত্যন্ত মূল্যবান। মিডিয়া আরবী যেহেতু পুরোপুরি টারমিনোলোজি বা পরিভাষা নির্ভর, তাই সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষ ছাড়া পৃথিবীতে মিডিয়া আরবী জানা মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম।
বিজনেস আরবী (Business Arabic)
বিজনেস আরবী হলো আরবী ভাষার একটি বিশেষায়িত রূপ, যা ব্যবসা, বাণিজ্য, এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এতে সাধারণত ব্যবসায়িক শব্দ এবং পদবীসমূহের ব্যবহার বেশি হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিজনেস আরবী ভাষার জ্ঞান বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। এটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে কিছু বাইং হাউজ আছে, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির সাথে ব্যবসা করে থাকে, তাদের বিজনেস আরবীর বিশেষ প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক কোম্পানীগুলো ইংরেজী ভাষা শিখতে অনাগ্রহী, তাই যারা মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির সাথে ব্যবসা করে থাকেন, তাদের ব্যবসা, বাণিজ্য, এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ব্যবসায়িক শব্দ এবং পদবীসমূহ জানতে হয়।
কুরআনিক আরবী (Quranic Arabic)
কুরআনিক আরবী হলো সেই ভাষা যা কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি ক্লাসিক্যাল আরবীর একটি শুদ্ধতম রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়। কুরআনিক আরবীর ব্যাকরণ এবং শব্দভাণ্ডার অত্যন্ত জটিল এবং গভীর। কুরআনের মর্মার্থ এবং তাৎপর্য বোঝার জন্য কুরআনিক আরবী ভাষার জ্ঞান অপরিহার্য। ইসলামী শিক্ষায় এই ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। কুরআনিক আরবী ভাষার গভীর জ্ঞান ছাড়া কেউ ইসলামিক স্কলার কিংবা কুরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী বলে দাবি করতে পারে না।
স্থানীয় উপভাষা (Local Dialects)
আরবী ভাষার বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন উপভাষা বা ডায়ালেক্ট প্রচলিত রয়েছে। মিসরীয় আরবী, ল্যাভেন্টাইন আরবী, মাগরেবী আরবী, এবং খলিজী আরবী অন্যতম। প্রতিটি উপভাষার নিজস্ব উচ্চারণ, শব্দভাণ্ডার, এবং ব্যাকরণ রয়েছে। স্থানীয় উপভাষা সাধারণত দৈনন্দিন জীবনে এবং অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় উপভাষার জ্ঞান স্থানীয় সংস্কৃতি এবং সমাজের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন উপভাষা বা ডায়ালেক্টে কিছু কিছু হরফ ও পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন, মিসরীয় আরবী ডায়ালেক্টে তাঁরা জ্বীম কে গাঈন এ রুপান্তর করে কথা বলে। তাঁরা নাজিব মাহফুজকে বলে নাগিব মাহফুজ যার মূল আরবী নাম জ্বীম দিয়ে- نَجِيْب مَحْفُوْظ। তেমনি মূল আরবী শব্দ জামীল (جَمِيل- সুন্দর) মিসরীয় ডায়ালেক্টে গামীল হয়ে যায়। আবার মূল আরবী শব্দ জামাল (جَمَل - উট) মিসরীয় ডায়ালেক্টে ‘গামাল’ হয়ে যায়। কোন কোন ডায়ালেক্টে আবার হরকত পরিবর্তন হয়, যেমন- গালফ ডায়ালেক্টে মূল আরবী শব্দ সায়্যারাহ (سَيَّارَة – গাড়ি- সীনের ওপর যবর দিয়ে) কে তাঁরা সিয়্যারাহ (সীনের ওপর যের দিয়ে) বলে থাকে।
আরবী ভাষার প্রকারভেদ এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলি খুবই বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময়। প্রতিটি প্রকারের নিজস্ব ব্যবহারিক ক্ষেত্র এবং গুরুত্ব রয়েছে। ক্লাসিক্যাল আরবী এবং কুরআনিক আরবী ধর্মীয় এবং ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে অপরিহার্য, যেখানে আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবী এবং মিডিয়া আরবী আনুষ্ঠানিক এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বিজনেস আরবী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় উপভাষা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এবং অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়। শিক্ষাগত এবং প্রযুক্তিগত আরবী ভাষার জ্ঞান একাডেমিক এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সফল হতে সহায়ক। আরবী ভাষার বিভিন্ন প্রকারভেদ বিষয়ে জানা থাকলে তা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়, যা মানুষের জীবনে নতুন নতুন সম্ভাবনা দ্বার উন্মোচন করে।
(রেফারেন্স : {প্রকাশিতব্য} কুরআন বুঝার হাতেখড়ি, মুহাম্মাদ মুহসিন মাশকুর, ইলহাম পাবলিকেশন্স, ঢাকা)।
Lesson-02
একজন আরবীর সাথে প্রথম দেখায় পরিচিতিমূলক কথোপকথন।
সংশ্লিষ্ট ৪২ টি জরুরী শব্দ। মোট ২টি কনভারসেশন, একটি পুরুষ-পুরুষ কথোপকথন অন্যটি নারী-নারী কথোপকথন। ২টি কথোপকথনে কীভাবে একজন মানুষের সাথে প্রথম দেখায় সালাম ও কুশল বিনিময় করতে হয় তা শেখানো হয়েছে। পাশাপাশি এখানে নিজের দেশ পরিচিতি কীভাবে দিতে হয় তা শেখানো হয়েছে। এবং একজনকে আরেকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পদ্ধতি দেখানো হয়েছে।
Lesson-03
দোকানে গিয়ে একটি L সাইজের জামা ও আজওয়া খেজুর কেনাকাটা এবং এই সংশ্লিষ্ট দোকানের সেলসম্যান ও ম্যানেজারের সাথে কথোপকথন।
সংশ্লিষ্ট ৪০ টি জরুরী শব্দ ও একটি ৫৪ বাক্যের লম্বা কথোপকথন। এখানে মোট ২ রকমের কেনাকাটা বিষয়ক কথা আছে। একজন ক্রেতা প্রথমে জামা কেনার জন্য একজন বিক্রেতার সাথে কথা বলেছে। এরপর ম্যানেজারের সাথে কেনাকাটার কিছু পলিসি নিয়ে কথা বলেছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ক্রেতা খেজুর কেনার জন্য বিক্রেতার সাথে কথা বলেছে।
Lesson-04
হজ্ব ও উমরাহ্ করাকালীন পথচারী, পুলিশ ও সাধারণ আরবীদের সাথে কথোপকথন।
সংশ্লিষ্ট ৩৫টি জরুরী শব্দ ও ২০টি কমন Phrase যেগুলো সাধারণত আরবরা সাধারণ আলাপ-আলোচনায় ও কথাবার্তায় ব্যবহার করে থাকে
সংশ্লিষ্ট ৩৫টি জরুরী শব্দ ও ২০টি কমন Phrase যেগুলো আরবরা সাধারণ আলাপ-আলোচনা ও কথাবার্তায় ব্যবহার করে থাকে। সাথে আছে ৬০টি বাক্যের লম্বা ৩ রকমের কথোপকথন।
এখানে হজ্ব/উমরাহ্ করাকালীন এখানে মোট ৩ রকমের কথোপকথন আছে।
১ম কথোপকথনে একজন হাজ্বী একজন সাধারণ পথচারীর সাথে আরবীতে কথা বলেছেন ও কিছু বিষয় তাঁর কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছেন।
২য় কথোপকথনে একজন হাজ্বী রাস্তায় দাঁড়ানো একজন পুলিশের সাথে আরবীতে কথা বলেছেন ও পুলিশ ফাঁড়ি সম্পর্কে কিছু বিষয় তাঁর কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছেন।
৩য় কথোপকথনে একজন হাজ্বী স্থানীয় এক আরবের সাথে নিজের দেশ পরিচয় ও হজ্জ্ব/উমরাহ্ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন ও তাঁর সাথে কিছু ভালো-লাগা মন্দ লাগার বিষয় শেয়ার করেছেন।
Lesson-05
সালাত, খাবার দাবার, কোন অফিসিয়াল মানুষের সাথে উন্মুক্ত কথা বলা।
সংশ্লিষ্ট ৬৪টি জরুরী শব্দ
সংশ্লিষ্ট ৬৪টি জরুরী শব্দ ও সাথে আছে ৬৪টি বাক্যের লম্বা ৩ রকমের কথোপকথন। এখানে মোট ৩ রকমের কথাবার্তা আছে।
আপনি প্রথমে একজন পথচারীর সাথে সালাত বিষয়ে সাধারণ কথাবার্তা বলছেন।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে আপনি একজন আরবীর সাথে একটি রেস্টুরেন্টে খাবার দাবার বিষয়ে তাঁর ও আপনার ভালো লাগা মন্দ লাগার বিষয়ে আলাপ করছেন বলছেন।
এরপর তৃতীয় ধাপে আপনি অনলাইনে একটি প্রোডাক্ট কেনার ব্যাপারে একজন একজন অফিসারের সাথে কেনাকাটার কিছু পলিসি নিয়ে আরবী ভাষায় কথা বলছেন।
এই কোর্সটি যে কেউ করতে পারবেন!
অনেকের স্বপ্ন আরবিতে টুকটাক কথা বলা। কোনো আরবের সাথে দেখা হলে অন্তত হাই-হ্যালো বলতে পারা। বিশেষ করে যারা হজ্জ-উমরাহ করতে যাবেন, তারা আরবি না জানার কারণে একটু অসুবিধায় পড়েন। আপনি যদি বেসিক স্পোকেন আরবি শিখেন, তাহলে আশা করা যায় এই সমস্যা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
আপনি কি বাংলা ভাষাভাষী এবং আরবী ভাষায় কথা বলতে শিখতে চান, কিন্তু আরবী বিষয়ে আপনার জ্ঞান কম বা একদমই নেই? তাহলে এই কোর্সটি আপনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। আপনি যদি কিছুটা আরবী জানেন বা যদি কখনোই আরবী পড়েননি, তবুও মাত্র পাঁচটি বিস্তারিত ক্লাসের মাধ্যমে আপনি আরবীতে কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় সকল দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।
এই কোর্সটি ধারাবাহিকভাবে আপনাকে মৌলিক জ্ঞান থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের কথোপকথন পর্যন্ত নিয়ে যাবে। আপনি গুরুত্বপূর্ণ শব্দভাণ্ডার, কী ফ্রেজ এবং প্রয়োজনীয় অভিব্যক্তি শিখবেন যা প্রতিদিনের আলাপে কাজে লাগে। প্রতিটি ক্লাসে বিভিন্ন বাস্তব জীবনের পরিস্থিতির উপর ফোকাস করা হয়েছে, যেমন: কুশল বিনিময়, নিজের পরিচয় দেওয়া, কেনাকাটা করা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করা ইত্যাদি।
এই কোর্সটি শেষ করার পর আপনি:
- ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আরবী শব্দ আয়ত্ত করতে পারবেন এবং ১২টি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে নিজের কথা প্রকাশ করতে পারবেন।
- সালাম ও কুশল বিনিময়, নিজের পরিচয় দেওয়া এবং নিজের দেশ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করার মতো আলাপচারিতায় অংশ নিতে পারবেন।
- জামা-কাপড় থেকে শুরু করে খেজুর কেনার সময় লোকালদের সাথে কথা বলার মাধ্যমে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
- আরবরা সাধারণ আলাপ-আলোচনায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও কমন ফ্রেজ ব্যবহার করে সেগুলি শিখবেন।
- সালাত, খাবার পছন্দ এবং অনলাইন কেনাকাটার বিষয়ে আরবীতে আলোচনা করার দক্ষতা অর্জন করবেন।
এই কোর্সে ব্যবহৃত সকল ম্যাটেরিয়াল ডাউনলোড করার সুবিধা পাবেন, যা আপনাকে নিজে নিজে আরও অনুশীলন করতে সহায়তা করবে।
এই যাত্রায় আমাদের সাথে যোগ দিন এবং মাত্র পাঁচটি ক্লাসের মধ্যেই আরবীতে কথা বলার আত্মবিশ্বাস অর্জন করুন!